শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

পবায় শীতের কম্বল গরমে বিতরণ!

৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ণ
পবায় শীতের কম্বল গরমে বিতরণ!

 

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবা উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণের ঘটনা নিয়ে উপকারভোগীও সচেতন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চৈত্র মাসের প্রখর রোদ উপেক্ষা করে সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে পবা উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এ কম্বল বিতরণ করতে দেখা যায়।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবা উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে একটি করে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। বড়গাছি ও নওহাটা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত মসজিদের ধর্মীয় দায়িত্বশীলদের এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বড়গাছিতে ২০৮ জন এবং নওহাটা পৌরসভায় ২৩০ জনের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পবা ফিল্ড সুপার ভাইজার মুসলেহুদ্দিন বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের কারণে এবং পবা উপজেলা থেকে কম্বল পেতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিতরণ সম্ভব হয়নি। আমাদের কোনো গাফিলতি ছিলনা, বরং উপজেলা পর্যায় থেকেই দেরি হয়েছে। সেজন্য আজকে আমরা বিতরণ করছি। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে দেওয়া হবে।”

 

তবে উপকারভোগীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে। কয়েকজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন জানান, গরমের সময় কম্বল তাদের কোনো কাজে আসছেনা। নওহাটা পৌরসভার বায়াপাড়া এলাকার এক মসজিদের ইমাম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের ঈদের উপহার দেওয়া হবে বলে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এসে দেখি কম্বল দেওয়া হচ্ছে। এই গরমে কম্বল দিয়ে আমরা কী করবো? শীতের সময় পেলে বেশি উপকার হতো।”

 

বড়গাছি এলাকার ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, “এটি একটি চরম অব্যবস্থাপনা। আমাদের ঈদের উপহার দেওয়া হবে ডেকে নিয়ে এসে এই গরমের সময়ে কম্বল দিচ্ছে। আমরা এই তীব্র গরমের ভিতরে কম্বল নিয়ে কি করবো?

 

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুঠিয়াপাড়া এলাকার মুয়াজ্জিন কবির হোসেন। তিনি বলেন, “শীতের সময় কম্বল না দিয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে। এগুলো তো এখন ব্যবহার করা সম্ভব না। বাধ্য হয়ে তুলে রাখতে হবে। এই দেরির দায় কে নেবে?”

 

অন্যান্য ইমাম ও মুয়াজ্জিনরাও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, শীতের সময়ে কম্বল না পেলে গরমের সময়ে তো কোন কাজে আসবেনা। শীতের কাপড় কি গরমে পরা যায়, এটি শীতের সময়ে দিলে বেশি ভালো হতো। এখন এ কম্বল তাদের কোন কাজে আসবেনা।

 

এ বিষয়ে পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এবার শীতবস্ত্র (কম্বল) বরাদ্ধ কত ছিল ও কোন প্রতিষ্ঠানের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কাগজপত্র না দেখে এটা বলতে পারবো না, আগামীকাল অফিসে আসেন দেখে জানাবো। শীতবস্ত্র (কম্বল) এর জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। তবে মাদ্রাসা, প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠান এবং অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে আগেই ১ হাজার ২৫০টি কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে। তারা নিজস্ব তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করেছে। যদি বিতরণে দেরি হয়ে থাকে, সেটি তাদের ব্যবস্থাপনার বিষয়। আমরা তাদেরকে অনেক আগেই কম্বল দিয়েছি।”

আরও পড়ুন.. জাতীয়
← Home