বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

পবায় কৃষক, মৎস্য চাষী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ

২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০২ অপরাহ্ণ
পবায় কৃষক, মৎস্য চাষী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবায় উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পূর্নবাসন সহায়তা খাত হতে খরিপ-১ মৌসুমে রোপা আউশ ধান আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 

এর আগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে "সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের" আওতায় সুফলভোগীদের মাঝে গোখাদ্য বিতরণ এবং উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে মৎস্য চাষীর মাঝে মৎস্য চাষের উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

 

বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা কৃষি হলরুমে কৃষক, মৎস্য চাষী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মাঝে এসব প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন। 

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন বলেন, ‘সরকার কৃষকদের উন্নয়নে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে, কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আবাদ খরচ কমবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবেন।’

 

তিনি আরও বলেন, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুফলভোগীদের মাঝে গোখাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য কৃষক, মৎস্যচাষী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন যেন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং লাভবান হয়। তাদের উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ ও সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন। আপনাদের যে কোন প্রয়োজনে আমার দপ্তর উন্মুক্ত রয়েছে।’

 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কৃষকদের সহায়তা করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সময়মতো এসব উপকরণ সরবরাহের ফলে চলতি মৌসুমে রোপা আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন। কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহŸান জানান।’

 

তিনি আরও বলেন, ১১০০ জন কৃষকের মাঝে রোপা আউশ ধান বীজ ৫ কেজি, ডিএপি ১০ কেজি, এমওপি ১০ কেজি রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়।

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘পিছিয়ে থাকা অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্যই কাজ করছে সরকার। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সরকার বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। তাঁরা গরু লালন-পালন করে উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। উদ্দেশ্য হলো প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করা এবং প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন।’

 

তিনি আরও বলেন, প্রণোদনা কর্মসুচীর আওতায় ৬৮ জন অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উপকারভোগী পরিবারের মাঝে ষাঁড়-বকনা গরুর গোখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি পরিবারে প্রতিটি ষাঁড় গরুর জন্য ১১৯.৬ কেজি ও ৩৪টি পরিবারে প্রতিটি বকনা গরুর জন্য ৭৯.৬ কেজি গোখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

 

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল্লাহ মোল্লাহ বলেন, ‘মৎস্য চাষীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য চাষীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মৎস্য চাষীদের উন্নয়নে উপজেলা মৎস্য দপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে এই আশা ব্যক্ত করেন।’

 

তিনি আরও বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রযুক্তি সেবা স¤প্রসারণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়) এর আওতায় কার্প মিশ্র চাষ প্রদর্শনী স্থাপনের জন্য উপজেলার চারজন মৎস্য চাষীর প্রতিজনকে মৎস্য চাষের উপকরণ সামগ্রী অ্যরেটর ১টি, চুন ৩২ কেজি, রোটেনন ১ কেজি, সাইনবোর্ড ১টি বিতরণ করা হয়েছে। 

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহŸায়ক সুলতান আহমেদ, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নুরুন্নবী, কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা রায়হান উদ্দিন, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, ক্ষেত্র সহকারী তাকির হোসেন সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন বøকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

আরও পড়ুন.. আঞ্চলিক
← Home