বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

রাজশাহীতে থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙ্গুর, বছরে ২০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তা সাগর

২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ
রাজশাহীতে থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙ্গুর, বছরে ২০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তা সাগর

এম এম মামুন: থোকায় থোকায় ঝুলছে ‘বাইকনুর’ জাতের আঙ্গুর। এমন দৃশ্য দেখে মনে হবে বিদেশ। কিন্তু বিদেশ নয়, দেশের মাটিতেই আঙ্গুর চাষে সফল হয়েছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার ইমাম হাসান সাগর।

 

উচ্চ শিক্ষিত তরুণ ইমাম হাসান সাগর তার পানের বরজ ভেঙে দুই বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেছেন ‘বাইকনুর’ জাতের আঙ্গুরের। পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। বাগান থেকে বছরে ২০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা।

 

বাগানে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফলন আসায় এটি এখন দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া, অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় বাগান করতে চারা সংগ্রহ করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই বিদেশি ফল চাষের বিস্তার ঘটলে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে।

 

জানা গেছে, রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর গ্রামের বাসিন্দা সফল উদ্যোক্তা ইমাম হাসান সাগর। তিনি ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি শেষ করেন। কিন্তু চাকরির পেছনে না ছুটে গ্রামে চলে আসেন।নিজের পানের বরজ ভেঙে সেখানে করেছেন আঙ্গুরের বাগান। তার দুই বিঘা জমিতে প্রায় ৩৬০টি আঙ্গুরের গাছ লাগিয়েছেন। গাছ গুলোর বয়স মাত্র ৯ থেকে ১০ মাস। তার বাগানে প্রতিটি গাছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কেজি করে আঙ্গুর ধরেছে। তিনি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী।

 

ভিনদেশি ফল হওয়ায় এই বাগান দেখতে নিয়মিতই ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। সবুজ নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ইউটিউব বা ফেসবুকে যা দেখতাম, এখন নিজের এলাকায় দেখতে পাচ্ছি, যা আসলে স্বপ্নের মতো এবং অকল্পনীয়। এই প্রজেক্ট দেখে অনেকেই নিজেরাও এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

 

সাগর বলেন, বাইকনুর ও একলোয় জাতের এই চারা গুলো বাংলাদেশে অলরেডি পরীক্ষিত। গাছ রোপণ করার পারফেক্ট সময় হলো এপ্রিল থেকে জুন মাস। হালকা টক হলে খেতে দারুন। পলিনিট সেট হাউসের ব্যবস্থা করতে পারলে এই আঙুর সারা বছর রাখা সম্ভব। কয়েকদিন আগে আমরা একটা গাছে গুনে প্রায় ৫০ থোকার মতো আঙ্গুর পেয়েছি। হাফ কেজি করেও ধরে, তবে প্রায় ২৫ কেজি হয়। সেখানে আমি যদি ২০ কেজি ধরি ৩৬০টা গাছে প্রায় ৭২০০ কেজি বা ৭ টনের উপরে ফলন আসে। বাজারে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলে ২০ লাখ টাকার উপরে বিক্রি করতে পারব।

 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) পাপিয়া রহমান বলেন, দেশে যদি এই মিষ্টি আঙুরের আবাদ বাড়ানো যায়। তবে বিদেশ থেকে আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এসব উদ্যোক্তাদের কৃষি অধিদপ্তর থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেয় তিনি।

আরও পড়ুন.. কৃষি
← Home