শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

বিলনেপালপাড়া চাষী ক্লাব ও বারসিক'র যৌথ উদ্যোগে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
বিলনেপালপাড়া চাষী ক্লাব ও বারসিক'র যৌথ উদ্যোগে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের বিলনেপালপাড়া গ্রামে স্থানীয় সংগঠন বিলনেপালপাড়া চাষী ক্লাব ও বারসিক এর যৌথ উদ্যোগে কৃষক নেতৃত্বে বরেন্দ্র অঞ্চল উপযোগী ধানজাত গবেষণার 'কৃষক মাঠ দিবস' অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সোমবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দর্শনপাড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, মো. আব্দুর রাজ্জাক, বিলনেপালপাড়া চাষী ক্লাবের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান লিটন, বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম সহ স্থানীয় কৃষক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বারসিকের প্রতিনিধিবৃন্দ।

 

মাঠ দিবসের মধ্য দিয়ে কৃষক-কৃষাণীগন এলাকার উপযোগী ধান জাত নির্বাচন করেন। দেশীয় ২১টি ধান জাতের মধ্যে ৪টি ধানের জাত নির্বাচন করা হয়।

 

এ বিষয়ে কৃষক এনামুল হক জানান, 'কৃষক নেতৃত্বে উপযোগী কৃষি গবেষণা প্লটে আমরা যে ধান উৎপাদন করেছি তার সম্পূর্ণ রাসায়নিক সার ও কীটনাশমুক্ত। ধান উৎপাদনে শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করেছি। বন্যার কারণে ফলন কিছুটা কম হয়েছে তবে আমরা যে দেশিয় ২১টি জাত গবেষণা করেছি তার মধ্যে কয়েকটি জাত পেয়েছি, যেগুলো চাষ করে আমাদের লাভবান হওয়া সম্ভব।'

 

দর্শনপাড়া ইউনিয়নের চাষী ক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান লিটন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের গবেষণা প্লটে যে ২১ জাতের ধান চাষ করেছি সেগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে এবং সম্পূর্ণ রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত। যা জৈব সার এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে উৎপাদন করা। এই জাতগুলোর মধ্যে আজলদীঘা, স্বর্নমহরীর সহ কয়েকটি জাত এই এলাকায় চাষযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে এবং এগুলোর ভালো বাজার মূল্য ও চাহিদা রয়েছে।'

 

বিলনেপালপাড়া স্বেচ্ছাসেবক রেজাউল করিম বলেন, 'বারসিকের উদ্দেশ্যগুলো খুব সুন্দর। বিগত দিনে দেশিয়জাতগুলো যেন বিলুপ্ত না হয় তা নিয়ে কাজ করে। কোন ধানটা থেকে কি (মুড়ি, চাল, পিঠা) ভালো হয় তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে কাজ করে কৃষকরা। আর এটা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি তাহলে পুরাতনজাত টিকে থাকবে পাশাপাশি আমরাও লাভবান হতে পারব।'

 

তিনি আরও বলেন, 'বারসিকের কার্যক্রমগুলো বরাবরই ইউনিক এরা যে হারিয়ে যাওয়া জিনিসগুলো নিয়ে, প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আশা করছি ভবিষ্যতে তাদের এ ধরনের কার্যক্রমগুলো অব্যাহত থাকবে।'

 

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, 'লোকাল জাতের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এবং এগুলো হারিয়ে যেতে না দিতে হলে এখানে গবেষণা প্লটে যে ধানগুলো চাষ করা হয়েছে তার মধ্যে থেকে যেগুলো এই অঞ্চলের জন্য চাষযোগ্য বিবেচিত হয়েছে তার মধ্যে থেকে যে কৃষকের যেটা ভালো লাগে সেটা আপনারা সবাই অল্প পরিমাণে চাষ করবেন। এগুলোর কোনটির ফলন আশানুরূপ, উৎপাদন ব্যয় কম, বাজারে চাহিদা রয়েছে এবং এ অঞ্চলে চাষের জন্য উপযুক্ত সেই জাতগুলো বিস্তর পরিসরে চাষ করতে পারেন। এছাড়াও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহার বৃদ্ধির পরামর্শ সহ বাড়ির আশেপাশে অনাবাদি, পতিত জমিগুলোতে পুষ্টি বাগান করার পরামর্শ দেন তিনি।'

 

দর্শনপাড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, 'কৃষকের চাহিদা ভিত্তিক ও ফলপ্রসূ কৃষি ব্যবস্থা করতে আমরা সচেষ্ট। কয়েকটি মৌসুম মিলে সারা বছরে ধান চাষ হয়। ধান থেকে আমরা খাবার পাই, পশুদের খাবার পাই এবং জ্বালানিও মিলে। এছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণে  কৃষকদের চাহিদা ভিত্তিক কৃষি ঋণ ও কৃষি যন্ত্রপাতি সহ সকল সুযোগ-সুবিধা পেতে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।'

 

বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশীয় জাতের ধান দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে সেগুলো টিকিয়ে রাখতে কাজ করছি। কৃষকরা সবচাইতে বড় বিজ্ঞানী, বড় গবেষক। এই গবেষনা কাজে তাদের সহযোগিতা সবার আগে। তেমনি দেশের উন্নয়নে কৃষকদের ভূমিকা সবচাইতে বেশি। তাদের শ্রমে সচল থাকে দেশের অর্খনীতি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কীটনাশকের অবাধ ব্যবহারে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। সেজন্য রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব (গোবর সার অথবা কেঁচো কম্পোস্ট) সার ব্যবহার করে আবাদ করার পরামর্শ দেন কৃষকদের।’

আরও পড়ুন.. কৃষি
← Home